Skip to main content

কোভিড ১৯ ও একটি অপহরণের গল্প | লেখক : আবদুল্লাহ আল মারুফ মুসান্না | ঢাকা মেট্রো চ

কোভিড ১৯ ও এটি অপহরণের গল্প
-আবদুল্লাহ আল মারুফ মুসান্না


সকাল সাড়ে সাতটা বাজে। বাইরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। প্রীতম ঘুমাচ্ছিল।এরকম একটা ছন্দময় পরিবেশে ঘুমাতে বেশ মজা। কিন্তু হঠাৎ এক বজ্রপাতের শব্দে বেচারার ঘুম ভেঙে গেল। এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার বিছানায় গা এলিয়ে দিল।শুয়ে শুয়ে ভাবতে শুরু করল বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা চারিদিকে বিরাজমান। " কি এক মহামারী এলো খোদা!" ভেবে উদাস হয় প্রীতম। আজ এক সপ্তাহ ধরে ওরা কোয়ারান্টাইনে আছে। কারো সাথে যোগাযোগ নেই। অবশ্য ফেসবুকের সাহায্যে ওর একাকীত্ব অনেকটাই কমে যায়। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ 'পাকিং'করে একটা শব্দ হলো। বুকের ওপর থেকে মোবাইলটা উঠিয়ে স্ক্রিনে দেখে একটি মেসেজ এসেছে। মেসেজটি সে পড়া শুরু করল। লেখা আছে,
হাই,
একটি ভালো ও একটি খারাপ খবর আছে। প্রথমেই আমার পরিচয় দিচ্ছি। আমি ডঃ জুলফিকার বলছি। একজন হতভাগ্য তরুণ প্রভাষক ও বিজ্ঞানী। খারাপ খবরটি আগে দেই।এটি শুনে যখন মন খারাপ হয়ে যাবে তখন ভালো খবরটি মন ভালো করে দেবে। খারাপ খবরটি হলো করোনা  ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ভালো খবরটি হলো আমি এমন এক ওষুধ আবিষ্কার করেছি যা এই ভাইরাসকে শেষ করতে পুরোপুরি সক্ষম। এই ভাইরাসটি জিন পরিবর্তন করে খুব দ্রুত। আমার ওষুধ এই ভাইরাসের জিন কে নষ্ট করে ফেলতে পারে। আমি নিজের ওপর ট্রাই করে দেখেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত একটি কুচক্রী মহল চায়না এ ভাইরাসের প্রকোপ কমুক। ওরা আমাকে হত্যা করতে টেরোরিস্ট হায়ার করেছে। বর্তমানে আমি একটি গোপন জায়গায় অবস্থান করছি। ওরা আমাকে দেশের আনাচে কানাচে খুঁজে বেড়াচ্ছে। ওদের তৈরি করা ড্রোন যেমন নজর রাখতে পারে তেমনি অব্যর্থ টার্গেট করে লেজার ফায়ার করতে পারে। তাই আমি এ ওষুধ কারো হাতে দিতে পারছিনা। যদি এদেশ থেকে এ ওষুধ পৃথিবীর করোনা আক্রান্ত দেশগুলোতে যায় তবে ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। এই মেসেজটি যেই পাবেন দয়া করে ফরওয়ার্ড করবেন ও আমার দেয়া ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করবেন। আমি আমার কিছু স্টুডেন্টদের দিয়ে মেসেজটি ছড়িয়ে দিয়েছি। ওরাও আমার সাথে আছে এবং খারাপ লোকেদের টার্গেটে পড়েছে। তাই ওরা ওষুধটা ডাক্তারদের কাছে পৌঁছে দিতে পারছেনা। আপনার একটি সাহায্যে বাঁচতে পারে লক্ষ লক্ষ প্রাণ।
আপনার সাহায্য কামনায়
ডঃ জুলফিকার সাইমন।
প্রীতম খুবই মনোযোগ দিয়ে মেসেজটি পড়লো।ওকে মেসেজটি ফরওয়ার্ড করেছে ওর একজন ফেসবুক ফলোয়ার। ছেলেটার সাথে কথা বলে মজা পায় প্রীতম। ও নিজেও ছেলেটাকে ফেসবুকে ফলো করে কিন্তু কেউ কারো ফেসবুক ফ্রেন্ড না। ও ঠিক করলো কাউকে মেসেজটি ফরওয়ার্ড করবে না। আগে নিজে নাম্বারটায় কল করবে। ও কল দিলো। বাইরে বাতাসের গতি বেড়েছে। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল ও। রিং হচ্ছে কিন্তু ফোন রিসিভ হচ্ছে না। ভাবলো ফোন রেখে দেবে এমন সময় ফোনের ওপাশ থেকে কাঁপা গলায় আওয়াজ এলো," হ্যালো, কে বলছেন?" প্রীতম নিজের পরিচয় না দিয়ে বলল," আমার কাছে আজকে একটি মেসেজ এসেছে। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন সম্পর্কে....." প্রীতম কে থামিয়ে দিয়ে লোকটি বলে উঠল, "আর বলতে হবে না ভাই। আমি গতকাল রাত দশটার দিকে মেসেজটি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু ভেবেছিলাম হয়তো এভাবে কারো কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যাবে না বরং কোনভাবে মেসেজটি ওই শয়তানদের হাতে চলে যাবে। কিন্তু বিশ্বাস করেন ভাই আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আমি ভাবি নি এত তাড়াতাড়ি কেউ কল দেবে। আমি চোখের সামনে আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।"প্রীতম জিজ্ঞেস করল," তা এখন আমি আপনার জন্য কি করতে পারি?" লোকটি আপত্তির সুরে বলল, "আমার জন্য না ভাই, দেশের জন্য, গোটা বিশ্বের জন্য করবেন। যেহেতু মেসেজটি আপনি পড়েছেন আপনি আমার অপারগতা সম্পর্কে জানেন। আপনাকে একটি লোকেশন বলবো সেখানে এসে ভ্যাকসিন নিয়ে যাবেন আর হ্যাঁ আপনি খুবই সৌভাগ্যবান।" প্রীতম অবাক হল। জিজ্ঞেস করল, "এ কথা কেন বলছেন?" লোকটি উত্তর দিলো, "কারণ আমরা যদিও মেসেজটি অনেকের হাতে পৌঁছে দিয়েছি তবু কেউ কল দেয়নি এখনো। আপনি প্রথমে কল দিয়েছেন। এ সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছেন।"একটু থেমে লোকটি প্রশ্ন করল," আপনি কোথায় আছেন এখন?"প্রীতম বলল, "ফার্মগেট। আমাকে কোথায় আসতে হবে?" লোকটি বলল, "আপনি পান্থপথের দিকে আগান সেখান থেকে আমাকে একটু পর ফোনে ট্রাই করবেন। সাবধানে আসবেন। রাখি।" মোবাইলটা রেখে প্রীতম আর এক গ্লাস পানি খেলো। উত্তেজনায় ওর শরীর টগবগ করছে। ওকে একটি বিরাট কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যদি ও ভ্যাকসিন ডাক্তারদের কাছে পৌঁছাতে পারে এবং ভ্যাকসিন কাজ করে তাহলে ওর নাম ও পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হবে। ওকে সবাই চিনবে। যদিও এখন বাইরে যাওয়ার অনুমতি নেই তাতে কি? একটা বাহানা দিয়ে ঠিকই যেতে পারবে। বলবে পাশের ফ্ল্যাটে ওর চাচ্চুদের বাসায় যাচ্ছে আধা ঘন্টার মধ্যে চলে আসবে। সেখানে যেতে ওর কোনো বাধা নেই। বাইরে ও খুবই সাবধানে যাবে যেন কেউ ওকে না দেখে। শান্তশিষ্ট একটি ছেলে হলেও রোমাঞ্চের গন্ধ পেলে আর হুশ থাকে না। এ কাজের জন্য ও যেকোনো ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। ও ওর প্রিয় ব্ল্যাক রেইনকোটটা পড়ে নিল। ও যাবে।
এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সারাদেশ থেকে এ পর্যন্ত পঁচিশজন ছেলেমেয়ে নিখোঁজ হয়েছে। পনেরো দিন হলো ওদের কোন খোঁজ নেই। একে তো করোনা ভাইরাসের কারণে ভালোভাবে খোঁজ করা যাচ্ছেনা তার ওপর স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এ ইস্যুটা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। ওদের পরিবারের দাবি ওদেরকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণ হওয়া ওই পঁচিশজনের মধ্যে প্রীতম ও একজন। ওর ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। মিডিয়ায় ওর ছবিও প্রকাশিত হয়েছে। ওদের অভিভাবকদের বক্তব্য একই। ওরা কাছেই বেরিয়ে ছিল কিন্তু অার ফেরত আসেনি। এসবের পাশাপাশি আরেকটা জিনিসও আলোচিত হচ্ছে। তা হলো ভিকটিম প্রীতম হায়াতের টেবিলের ওপর রাখা ডায়েরির একটি অাট শব্দের লেখা নোট। ওতে লেখা আছে, "আমরা শীঘ্রই ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে তৈরি থেকো বিশ্ব।"

Comments

Popular posts from this blog

মানসিক সমস্যায় নারী-পুরুষ | ঢাকা মেট্রো চ

মা ন সিক সমস্যায় না রী-পুরুষ লেখক: কে. এম. ধ্রুব আপনি যখন মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশনের অভাবে ভুগবেন তখন মনোবিজ্ঞানীর দারস্থা হবেন। লক্ষ্য করে দেখবেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টারে আপনার আশেপাশে যারা আছে তাদের অধিকাংশ নারী। বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বেই এসব সেন্টারে নারীরা সংখ্যাগুরু। তবে কি পুরুষেরা মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশনের অভাবে ভুগে না? ধরে নেয়া যাক নারীরা মানসিক সমস্যায় বেশি ভুগে আর পুরুষেরা কম। কিন্তু বিজ্ঞান কি বলে? পরিসংখ্যান কি বলে? বিগত দু বছরে পুরুষের আত্মহত্যার হার নারীদের চেয়ে বেশি প্রায় ৩.৫৪ শতাংশ। এমনকি উন্নত বিশ্বের দেশ আমেরিকাতে ৬মিলিয়ন পুরুষ দুশ্চিন্তায় থাকেন। এখানেই শেষ নয় পুরুষের মাদকাসক্তির হার নারীর চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি। মদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে যেখানে প্রতি বছর ২৬,০০০ নারী মৃত্যুবরণ করে, যেখানে প্রায় ৬২,০০০ পুরুষ এই কারণে মারা যায়! পুরুষের জন্য যে ব্যাপারটা অতি সাধারণ সেই পুরুষেরাই কেনো মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কম যান? মূলত ব্যক্তিত্ব বা তথাকথিত পৌরুষপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জন্য তারা সমস্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। যদিও আমাদের জেনারেশনের আমরা বেশিরভাগ মানুষই...

মধ্যবিত্ত || লেখক : কে এম নিহাল || ঢাকা মেট্রো চ

আমার বাবা আমাকে কোন দিন এতো ভোরে ঘুম থেকে উঠা র জন্য ডাকেননি। কিন্তু আজ প্রথম সকাল বেলায় বাবা আমাকে ডেকে বললেন, তোর কাছে কিছু টাকা হবে বাবা? বাবার কথায় আমি যেন পাথর হয়ে গেলাম। যে বাবা আমার পার্সোনাল খরচ দেয় সেই বাবা আবার উল্টো আমার কাছে টাকা চাইলো। কোনো ভাবে নিজেকে সামলে বাবাকে বললাম,বাবা তুমি এখানে বসো আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি। আসলে দেশ লকডাউন হওয়ার পর থেকে বাবা সংসার সামলাবে কি করে এনিয়ে বেশ চিন্তায় আছেন।পুরো দেশে অফিস আদালত বন্ধ।কোন কোম্পানি বেতন দিয়েছেতো আর কোন কোম্পানি দেয়নি।বাবা চাকরিও করেন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে। বেতন বিশ -পচিঁশ হাজার টাকা।যা দিয়ে আমাদের বাবা-মা সহ ভাইবোন পাঁচ জনের সংসারটা মোটামোটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই চলে। এপ্রিলের ছয় তারিখে বাবার বেতন পাওয়ার কথা ছিলো।তার আগে অফিস বন্ধ হয়ে গেলো।আর কোম্পানিও মাস শেষ হয়নি বলে বেতনটাও দেয়নি।দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে আতংকিত অবস্থায় বাবা ঘর থেকে যাতে বের হতে না হয় সে জন্য যে অল্প টাকা ঘরে ছিলো তা দিয়ে অল্প চাল এবং ডাল নিয়ে এসেছিলেন। তা সব দশদিনের আগেই শেষ হয়ে গেলো। মা কাল থেকে বারবার বলে আসছিলেন,লজ্জা ফেলে কি হ...

প্রিয় মানুষ || বিপুল আহমেদ বিশাল || ঢাকা মেট্রো চ ||

প্রিয় মানুষ   বিপুল আহমেদ বিশাল মাঝে মাঝে দুর্গন্ধ ও সুগন্ধ ফুলের মতো, যদি প্রিয় মানুষটি সাথে থাকে! অনেক দূরের বাঁকা পথ সহজ কাছের পথ হয়ে যায়, যদি প্রিয় মানুষটির হাতে হাত রেখে হাঁটা হয়! মাঝে মধ্যে অসম্ভব কাজ ও সম্ভব হয়, যদি প্রিয় মানুষটি পাশে থাকে! যে মানুষটি কখনো পাঁচ মিনিট একা বসে অপেক্ষা করেনি, যদি প্রিয় মানুষটি হয় ঘন্টার পর ঘন্টা একা বসে অপেক্ষা করেছে!! নিজেকে অনেক অসুস্থর মধ্যে ও সুস্থ মনে হয়, যদি প্রিয় মানুষটি সিটের পাশের চেয়ারে বসে থাকে!! পুরা পৃথিবীকে অন্ধকার মনে হয় কোথাও আলো নেই, যদি প্রিয় মানুষটি কষ্টে থাকে!! মৃত্যু কে আপন করে বরন করবো, যদি আমার মৃত্যুতে প্রিয় মানুষটি সুখি থাকে!! প্রচ্ছদ : শাহেদ-উর রহমান দীপ্র