Skip to main content

এক মূহুর্তের গল্প || লেখক : অমর্ত্য কুমার সরকার || ঢাকা মেট্রো চ৷ ||





এইতো গতবছরের কথা
অক্টোবর মাসের পূজার সময় এর ঘটনা। পূজা আসলেই অনিক এর মনটা কেমন যেনো খুসিতে ভরে উঠে। তার মাথায় থাকে নানান চিন্তা কোন পোশাক পরবে, বন্ধুদের সাথে কোথায় ঘুরতে যাবে অনেক চিন্তা তার মাথায় এ নিয়ে।
কিন্তু এবার হলো কি অনিক এর মামার জোড়াজোড়িতে মা ও বোন ঠিক করলো এবার মামা বাড়ি যাবে ঘুড়তে।
যথারিতি তার বাবা তার মা আর বোনকে বাস এ তুলে দিয়েছিলেন। অনিকের খুব ইচ্ছা ছিলো তাদের সাথে যাওয়ার। মামা বাড়ির নাম শুনলেই খুশিতে তার মন ভরে যেতো।
যাই হোক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সুবাদে তার আর এবার পূজায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। কারন অক্টোবর মাসের শেষেই তার সেমিস্টার মিডটার্ম পরীক্ষা ছিলো।
বেচারার ভাগ্যটাই খারাপ। আর তার বাবার সরকারী চাকরির কারনে যাওয়া হলো না।
এবারের পুজোটা এলাকায় পালন করলো সে।
এবার আসা যাক ঘটনায়,
সেদিন ছিলো নবমীর রাত, প্রতিদিন এর মতো সেইদিনও অনিক তার বন্ধু আকাশ এর সাথে ঘুরতে বেরোবে।
তো প্রাই সন্ধ্যার দিকে অনিক ও তার বন্ধুরা অনিক এর বাসার ছাদে আড্ডা দিতো।পুজার কারণে তাদের চার পাঁচ দিন আড্ডা অফ ছিলো। সেদিন সন্ধ্যায় অনিকের ফোনে রিং আসে। আকাশ তাকে বললো ছাদে জল এর বোতল নিয়ে আস্তে তার খুব জল পিপাসা লেগেছে সাধারণত অনিক এর বাসায় তার বাবা থাকায় ওর বন্ধু আকাশ আর রুম এ আসতে চাইলোনা। তাই আর কি অনিক ভাবলো সে সংকোচবোধ করছে তাই জল এর বোতল নিয়ে ছাদে গেলো।
দেখলো আকাশ চুপচাপ বসে আছে এবং জল দেওয়ার সাথে সাথে রিতি মতো কোনো কথা না বলেই আকাশ জল খেলো প্রায় এক লিটার এর বোতল ছিলো।
অনিক দেখে একটু অবাক হলো কিন্তু মনে মনে বললো হয়তো বেশি জল পিপাসা লেগেছে। তারপর সে আকশ কে বল্লো আমি বোতল টা রেখে আসি বাসায় আকাশ তারপরেও কোন কথা বললো না সে ভাবলো বোতল রেখে এসে কথা বলবে।
অনিক যখন রুম এ আসলো তার বাবা বললেন কিরে তোকে তো তোর বন্ধু কল করেছিলো ।
অনিক বল্লো কে বাবা? বাবা বললেন তোর বন্ধু আকাশ। আকাশ ফোন এ বললো সে তার ফ্যামিলি এর সাথে বাইরে যাচ্ছে পুজো দেখতে তো সে আসতে পারবে না তোকে জানিয়ে দিতে বললো। কিন্তু তুই ছাদে বোতল নিয়ে কই গেছিলি?
এসব শোনার পর অনিক এর মাথায় আর কিছু কাজ করছিলো না সে বাবাকে বল্লো আমি গাছে জল দিতে গেসিলাম এই বলে সে সাথে সাথে, মোবাইল হাতে নিলো এবং দেখলো একটাই ফোন কল ছিলো এবং সে প্রমান পেতে তার মোবাইল এর কল রেকর্ড অন করে শুধু তার বাবার সাথে আকাশ এর কথা হয়ছে তাই শুনতে পেলো ওইদিন আর ২য় কোনো ফোন কল ছিলো না।
অবশ্য একথা সে তার পরিবারের কাউকে জানায়নি। এরপর থেকে আর সে ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেনি বিশেষ করে রাতে।
অবশ্যই এটা ভয় এর মুহুর্ত কিন্তু এতে রহস্যের ছোয়া রয়ে গেলো । কারণ কে ছিলো সে যে অনিকের ক্ষতি করলো না কিন্তু এরপর আর একটিবারও দেখা দিলো না।
(সমাপ্ত)

Comments

Popular posts from this blog

মানসিক সমস্যায় নারী-পুরুষ | ঢাকা মেট্রো চ

মা ন সিক সমস্যায় না রী-পুরুষ লেখক: কে. এম. ধ্রুব আপনি যখন মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশনের অভাবে ভুগবেন তখন মনোবিজ্ঞানীর দারস্থা হবেন। লক্ষ্য করে দেখবেন মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সেন্টারে আপনার আশেপাশে যারা আছে তাদের অধিকাংশ নারী। বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বেই এসব সেন্টারে নারীরা সংখ্যাগুরু। তবে কি পুরুষেরা মেন্টাল স্যাটিসফ্যাকশনের অভাবে ভুগে না? ধরে নেয়া যাক নারীরা মানসিক সমস্যায় বেশি ভুগে আর পুরুষেরা কম। কিন্তু বিজ্ঞান কি বলে? পরিসংখ্যান কি বলে? বিগত দু বছরে পুরুষের আত্মহত্যার হার নারীদের চেয়ে বেশি প্রায় ৩.৫৪ শতাংশ। এমনকি উন্নত বিশ্বের দেশ আমেরিকাতে ৬মিলিয়ন পুরুষ দুশ্চিন্তায় থাকেন। এখানেই শেষ নয় পুরুষের মাদকাসক্তির হার নারীর চেয়ে ২-৩ গুণ বেশি। মদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে যেখানে প্রতি বছর ২৬,০০০ নারী মৃত্যুবরণ করে, যেখানে প্রায় ৬২,০০০ পুরুষ এই কারণে মারা যায়! পুরুষের জন্য যে ব্যাপারটা অতি সাধারণ সেই পুরুষেরাই কেনো মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কম যান? মূলত ব্যক্তিত্ব বা তথাকথিত পৌরুষপূর্ণ ব্যক্তিত্বের জন্য তারা সমস্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে। যদিও আমাদের জেনারেশনের আমরা বেশিরভাগ মানুষই...

মধ্যবিত্ত || লেখক : কে এম নিহাল || ঢাকা মেট্রো চ

আমার বাবা আমাকে কোন দিন এতো ভোরে ঘুম থেকে উঠা র জন্য ডাকেননি। কিন্তু আজ প্রথম সকাল বেলায় বাবা আমাকে ডেকে বললেন, তোর কাছে কিছু টাকা হবে বাবা? বাবার কথায় আমি যেন পাথর হয়ে গেলাম। যে বাবা আমার পার্সোনাল খরচ দেয় সেই বাবা আবার উল্টো আমার কাছে টাকা চাইলো। কোনো ভাবে নিজেকে সামলে বাবাকে বললাম,বাবা তুমি এখানে বসো আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি। আসলে দেশ লকডাউন হওয়ার পর থেকে বাবা সংসার সামলাবে কি করে এনিয়ে বেশ চিন্তায় আছেন।পুরো দেশে অফিস আদালত বন্ধ।কোন কোম্পানি বেতন দিয়েছেতো আর কোন কোম্পানি দেয়নি।বাবা চাকরিও করেন একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে। বেতন বিশ -পচিঁশ হাজার টাকা।যা দিয়ে আমাদের বাবা-মা সহ ভাইবোন পাঁচ জনের সংসারটা মোটামোটি মধ্যবিত্ত পরিবারের মতোই চলে। এপ্রিলের ছয় তারিখে বাবার বেতন পাওয়ার কথা ছিলো।তার আগে অফিস বন্ধ হয়ে গেলো।আর কোম্পানিও মাস শেষ হয়নি বলে বেতনটাও দেয়নি।দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে আতংকিত অবস্থায় বাবা ঘর থেকে যাতে বের হতে না হয় সে জন্য যে অল্প টাকা ঘরে ছিলো তা দিয়ে অল্প চাল এবং ডাল নিয়ে এসেছিলেন। তা সব দশদিনের আগেই শেষ হয়ে গেলো। মা কাল থেকে বারবার বলে আসছিলেন,লজ্জা ফেলে কি হ...

প্রিয় মানুষ || বিপুল আহমেদ বিশাল || ঢাকা মেট্রো চ ||

প্রিয় মানুষ   বিপুল আহমেদ বিশাল মাঝে মাঝে দুর্গন্ধ ও সুগন্ধ ফুলের মতো, যদি প্রিয় মানুষটি সাথে থাকে! অনেক দূরের বাঁকা পথ সহজ কাছের পথ হয়ে যায়, যদি প্রিয় মানুষটির হাতে হাত রেখে হাঁটা হয়! মাঝে মধ্যে অসম্ভব কাজ ও সম্ভব হয়, যদি প্রিয় মানুষটি পাশে থাকে! যে মানুষটি কখনো পাঁচ মিনিট একা বসে অপেক্ষা করেনি, যদি প্রিয় মানুষটি হয় ঘন্টার পর ঘন্টা একা বসে অপেক্ষা করেছে!! নিজেকে অনেক অসুস্থর মধ্যে ও সুস্থ মনে হয়, যদি প্রিয় মানুষটি সিটের পাশের চেয়ারে বসে থাকে!! পুরা পৃথিবীকে অন্ধকার মনে হয় কোথাও আলো নেই, যদি প্রিয় মানুষটি কষ্টে থাকে!! মৃত্যু কে আপন করে বরন করবো, যদি আমার মৃত্যুতে প্রিয় মানুষটি সুখি থাকে!! প্রচ্ছদ : শাহেদ-উর রহমান দীপ্র